

ময়মনসিংহ উপজেলার ছাহিলের বয়স ২৪ বছর। ২০১৮ সালে তিনি এসএসসি পাশ করেন। পড়াশোনা করেছেন মুকুল নিকেতন উচ্চ বিদ্যালয়ে। এখন নিজ জেলায় বসে মুক্ত পেশাজীবী বা ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ করেন। ফ্রিল্যান্সিং করে ছাহিলের মাসিক প্রায় এখন এক হাজার মার্কিন ডলার, অর্থাৎ এক লাখ টাকার বেশি।
ময়মনসিংহে বাড়ি ছাহিলের। ২০১৮ সালে তিনি এসএসসি পাশ করেন । তারপর তিনি ২০২০ সালে নিজে থেকে ব্যবসা শুরু করেন,,
ব্যবসা করার পাশাপাশি তিনি ফ্রিল্যান্সিং করা শুরু করেন, ফলে তিনি সফল হন নি এবং হাল ছেড়ে দেয় নি,,২০২২-২০২৩ কতটা হতাশায় রাত পার করেছে তা শুধু তিনিই জানেন। হতাশ হয়েছে আবার ঘুরে দাড়িয়েছে। তবে,,ফ্রিল্যান্সিং এর জার্নিটা মোটেও তার জন্য সহজ ছিল না। ধৈর্য এবং অনেক রাত জাগা কষ্টের ফল।
এর মাঝে তার জীবনের সবচেয়ে খারাপ সময়টাও এসেছিলো,চলে গেছে!
কাছের মানুষদের কাছে তিনি ছাহিল নামে পরিচিত।
প্রথমে পরিবারের কোনো সমর্থন পাননি ছাহিল। যেহেতু ব্যবসা এর পাশাপাশি একটা সম্পূর্ণ আলাদা একটা জগতে কাজ করা, তাই কেউই এটার পক্ষে ছিলেন না। নিজেরও কোনো কম্পিউটার ছিল না তার। ছাহিল বলেন, ‘সেই সময় আমি আমার মোবাইল থেকে কাজ শিখতাম ও চর্চা করতাম। মনে হতো একটা নির্দেশনার প্রয়োজন। সেই ঐ ভাইয়ের থেকেই তিনি কাজ শুরু করা চালিয়েন যান।
যেহেতু ছাহিল একজন ব্যবসায়ী ছিলেন, তাই প্রযুক্তির সঙ্গে তার মোটামুটি কিছু ধারণা ছিল তবে প্রযুক্তির প্রতি তার প্রবল আগ্রহ ছিল। ২০২২ সালে একটা লেপটপ কেনেন তিনি। কৌতূহলবশত ছাহিল নিজের ফোন থেকে ফেসবুক এডস এবং গুগোল এডস নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করতে থাকেন। তিনি বলেন, ‘ইউটিউবে প্রথম একটা ফাইবারে ফেসবুক এডস রান করার ভিডিও দেখে তারপর এই বিষয়ে তার আগ্রহ বেড়ে যায়। তখনো ছাহিল ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে কিছুই জানতেন না। কৌতূহল থেকেই শেখা। এরপর সেই প্রশিক্ষণকেন্দ্রের এক সতীর্থের কাছে শুনলেন অনলাইনে ফ্রিল্যান্সার হিসেবে আয় করা যায়। এরপর এই ব্যাপারে আরও জানা শুরু করলেন। তারপর তার মা এর থেকে টাকা ধার করে একটি কোর্সে ভর্তি হলেন। পরে অবশ্য টাকাটা ছাহিল দিয়ে দিয়েছেন। তারপর তার বাবার থেকে আবদার করে একটা লেপটপ কিনেছিলেন।
তিনি কাজ শেখা শুরু করেছে ১২/০২/২০২২
তিনি সেপ্টেম্বর ২২ এ ফাইভার একাউন্ট করে কিন্তু কাজ পায় না,হতাশ হয়ে গেছিলো,হাল ছাড়ে নাই, তারপর এক প্রতিনিধির সাথে আকাঙ্গা পরিচয়,,প্রশিক্ষণ কোর্স শেষ হওয়ার পর তিনি মার্কেটপ্লেসে চলে যান,তারপর ওনার হাত ধরে পরবর্তী ২য় ফাইবার একাউন্ট খুলে,তারপর ২ মাস ওনার সাথে কাজ শেখার পর অনলাইন মার্কেটপ্লেস লিংডিন এ ৭৫$ এর একটি ফেসবুক পেইজ সেটাপ এর একটি কাজ পান। এ থেকেই শুরু হয় অনেক উত্থান পতন আজকের এই মাসে এসে তার ১ টা একাউন্ট ( Level 2) অন্য ১টাই একাউন্ট (Level 1),
দীর্ঘ ২ বছর ধরে ডিজিটাল মার্কেটিং এর সাথে পথ চলা তার! অবশেষে ৩ মাসে আরনিং $1k+ ছাড়াল, গত ৩ মাসে ! আশা করছি এই মাসে আরো $৫০০+ ডলার পার হবে ইনশাআল্লাহ্ !
আলহামদুলিল্লাহ্, আল্লাহ্র রহমত, অনেক চেষ্টা আর ধৈর্য এর ফল তার !
আল্লাহর রহমতে এই বছর লেভেল ২ পাড়ি দিয়েছে
বর্তমানে ফাইভারে টিম নিয়ে কাজ করছে
যে ধরনের কাজ করেন ছাহিল
ছাহিল এখন ইন্টারনেটে ফ্রিল্যান্স আউটসোর্সিংয়ের কাজ দেওয়া–নেওয়ার জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ফাইভআর ও আপওয়ার্কে কাজ করেন বেশি। স্থানীয় কিছু গ্রাহকের কাজও করছেন। তাঁর বর্তমানে দক্ষতা ফেসবুক এডস,বিসনেস একাউন্ট রেস্ট্রিকটেড সমাধান, গুগল এডস, ওয়েবসাইট এনালাইসিস এবং যেকোন সোসিয়াল মিডিয়া রিকোভারি করে থাকে । তবে সোসিয়াল মিডিয়া রিকোভারি এবং বিসনেস ম্যানেজার একাউন্ট রেস্ট্রিকটেড সমাধান এর কাজ আসে বেশি। তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি প্রতিষ্ঠানের ফেসবুক একাউন্ট রিকোভারি এর কাজ করছি।’
তাঁর প্রতিষ্ঠানে ৫জন কর্মী। এর মধ্যে তিনজন কর্মী পূর্ণকালীন।
ব্যবসা করার পাশাপাশি ছাহিল একটা দল বানান। ২০২৩ সালের শেষ দিকে ডিজিটাল মার্কেটিং এর আরো বিস্তারিত সকল কিছু শেখা শুরু করেন। এরপর থেকে আর পেছনে তাকাতে হয়নি তাঁকে। এ পর্যন্ত ৫০ টির বেশি কাজ (প্রজেক্ট) সম্পন্ন করেছেন তিনি।
ছাহিল প্রথম আলোকে বলেন, ‘বর্তমানে পুরো পরিবারের দায়িত্ব আমার ওপর। বিষয়টি আমাকে খুব শান্তি দেয়।
ছাহিল প্রথম আলোকে তাঁর কাজ সম্পর্কে বলেন, ‘ফেসবুক এডস হচ্ছে মূলত যেকোনো পণ্যের বা ব্রেন্ড এর বিজ্ঞাপন (প্রচার) দেওয়া। এবং এর পাশাপাশি ফেসবুক এডস এর বিসনেস ম্যানেজার একাউন্ট কোন কারণে রেস্ট্রিকটেড হয়ে যায়,তাহলে নিজে যেন সমাধান করতে পারি,সেইটা নিজ আগ্রহ দিয়ে শেখা।
তবে,তিনি চিন্তা করেছেন,নিজের এজেন্সির কাজের পরিধি বাড়ানোর এবং অনলাইন মার্কেটপ্লেসে আরও বেশি সক্রিয় হওয়ার কথা ভাবছেন ছাহিল। তিনি বলেন, ‘একটা বড় ডিজিটাল এজেন্সি গড়তে চাই, সেবার মান ঠিক রেখে। এজেন্সি থেকে যে আয় হয়, তাতে আমার কর্মীদের বেতনও হচ্ছে, আমার একটি বাড়তি আয়ও হচ্ছে। এখন প্রতি মাসে এক থেকে দেড় হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত আয় করছি ফ্রিল্যান্সিং করে।’
নতুনদের জন্য
নতুনদের উদ্দেশে ছাহিল বলেন, ধৈর্য,স্কিল,ইনোভেটিভ মাইন্ডসেট,তিনটার প্রতিফলন থাকলে ঘুমানোর আগে স্বপ্ন দেখুন,পূরুণের মালিক অন্য একজন! আমার জন্য অতটা সহজ ছিলোনা ফ্রিলেন্সিং করাটা, যা দেশে বসে করা যায় ওয়ান কাইন্ড অফ মায়ের কোলে বসে ফ্রীল্যান্সিং করা।ইনশাল্লাহ সফলতা আসবে,আসতেই হবে।আল্লাহ আপনাকে দেওয়ার জন্য বসে আছে,আপনি শুধু সেটার যোগ্য হন,দেখবেন সব পাবেন
আপনার মতামত লিখুন :